একটি এক্কেবারে ছোট্ট Introduction!!
পুরুলিয়া বামনি ফলস ঘুরতে গেলে আপনার feelings ও অনেকটা এমনই হতে পারে!!

গাড়ি থেকে নেমেই যেটা দেখবেন, তা হলো একটা লম্বা জ্যাম! (যদি আপনি খুব সৌভাগ্যবান না হন!) বেশ কিছু খাবারের দোকান। গাদা গুচ্ছের সিগারেট বিড়ির দোকান, জলের দোকান, কোল্ড ড্রিংকস এর দোকান আরো কত কি! আর এসবের মাঝে হাতড়ে খুঁজে বার করবেন একটা ছিমছাম রাস্তা যেটা কিনা ঝর্ণার দিকে নেমে গেছে!
তো নামলেন! যেহেতু নিচে নামছেন, কষ্ট নয়, বেশ আনন্দই হবে! এরই মধ্যে যারা অভিজ্ঞ কিংবা যারা আন্দাজ করতে পেরেছেন, তারা আগে ভাগেই বলতে শুরু করেছেন, বেশি নিচে নামবো না। ঠেলে উঠতেও হবে। তখন হাল খারাপ হবে। যাই হোক, সেসব চিন্তা দূর করে আপনি নেমে পড়ছেন! দু হাতে বিভিন্ন দোকানে শসা, তরমুজ, জলের বোতল কোল্ড ড্রিংকস নিয়ে দোকানদার রা বসে আছেন, আর অপেক্ষায় আছেন -“যাবি কোথায়! এই পথেই তো হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরতে হবে!” তখনকার মতো সেসবও অগ্রাহ্য করে আপনি নামছেন!
শ-দেড়শ সিঁড়ি নামার পর প্রকৃতি আপনাকে একটা প্রিভিউ দেবে। বেশ উপভোগ্য! জঙ্গলের মাঝখানে গাছপালার আড়ালে থাকা জলস্রোত। বেশ মনোরম। অনেকে এখানেই জলে নেমে পড়েছেন! কয়েকজন এতেই ক্লান্ত। তারা বলছে আর না! কয়েকজন তখন গুগলে দেখেছেন নীচে কতদূর নামতে হবে। কয়েকজন বলছেন হাতে সময় নেই। গায়ে জোর নেই। একই জিনিস নিচে আছে। আলাদা কিছু দেখার নেই। গাড়ির ড্রাইভার তাড়া দিচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি! আপনি এদের দলেও পড়লেন না। আপনি বেশ মজাদার লোক! Adventure প্রিয়, তাই দিব্বি প্রিভিউ দেখে পাশ কাটিয়ে নিচে নামতে শুরু করলেন!
এবার শুরু হলো আপনার ধৈর্যের পরীক্ষা! যত নামবেন, ততই দ্বন্দ্ব বাড়বে, পরে উঠতে পারবেন তো! কারণ আপনি জানেন না, ঠিক কতটা উঠতে হবে! কেউ কেউ বলছে সামনেই। কেউ বলছে গিয়ে লাভ নেই। তবুও আপনি এগিয়ে চললেন! এত কিছুর মাঝে সিঁড়ি গুনতে গুনতে কখন যে গুলিয়ে ফেলবেন কত পর্যন্ত গুনলেন, ঠাওর করতে পারবেন না!!! এই বাঁক, সেই বাঁক করে, এর পাশ, তার পাশ কাটিয়ে, এই ডাল ওই ডাল সড়িয়ে, এই পাথর ওই পাথর টপকে অবশেষে, এবং অবশেষেই আপনি পৌঁছলেন!
এই দৃশ্য টা আপনার আমার সকলেরই খুব প্রিয়। বড়ো বড়ো পাথরের উপর দিয়ে ঝর্ণার জল বয়ে যাচ্ছে নিচে। জঙ্গলের ভিতরেও এই জায়গা টা অনেক টা ফাঁকা। সূর্যের আলোয় পাথরের মধ্যে দিয়ে রুপালি স্রোতের নকশা কেটে জল বয়ে চলেছে নিরন্তর। এতটা পথ আসার পর যদি আপনি জুতো খুলে কিংবা একান্তই জামা জুতোর পরোয়া না করে, সেই জলে পা ডুবিয়ে থাকেন, সেই পরম অনুভূতির কথা আর নাই বা বললাম!! সেখানে তখন বেশ কিছু জন বাড়ি থেকে স্নানের প্ল্যানিং করেই এসেছে। কেউ শুধুই ছবি তুলতে ব্যস্ত। কেউ তখনও সাহস করে জলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। আর আমার মতো কেউ তখনও জলের মধ্যে পা ডুবিয়ে বসে আছি। সেই হিমশীতল স্রোতের স্পর্শে সমস্ত গ্লানি মুছে যাওয়ার অনুভবে।

এখনো পর্যন্ত আপনার উপলব্ধি বেশ ভালোই। এবার আপনার ফিরে যাওয়ার পালা। সম্পূর্ণরূপে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার পর সেই পথে আপনি ফেরা শুরু করলেন। এবার আপনি একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি! আপনি মানুষজনের প্রশ্নের উত্তরে বলবেন, বেশি দূর না, কাছেই। বা যা কিছু (সেটা আপনিই জানেন!!) এবার আর অন্য কিছু ভাবার নেই! কোনোমতে সমতলে ফিরতে পারলেই হলো! রেস্ট নেবেন। পাশে দাঁড়াবেন! হাঁপাবেন! বসেও পড়তে পারেন। এমন অনেক struggle করে আপনি পৌঁছাবেন প্রিভিউ সেকশন এ! তখন আপনি রাজা! ভাববেন, এ আর এমন কি দৃশ্য! নীচে এর চেয়ে ঢের ভালো ভিউ রয়েছে!!

এখানে বেশ খানিক্ষণ রেস্ট নেওয়ার পর (বা না নিয়েই) আপনি বাকি পথ টাও কমপ্লিট করার ফেলবেন! মাঝখানে দোকানগুলোর হাতছানি অগ্রাহ্য করতেও পারেন আবার নাও পারেন! তবে এমন গরমে শসা তরমুজের লোভ ত্যাগ করার সত্যিই চাপের!!
যে টুকু সময় আপনি নিয়োগ করলেন এই ভ্রমণে, তার পুরোটাই আপনি উপভোগ করতে পেরেছেন!! এখন আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে একটা গভীর জঙ্গলের ভিতরের রুপোলি স্রোতের অনাবিল আস্বাদ, যা সবাই পায় না!! এবার পরের গন্তব্য!
লেখাটা ছোট্ট করতে পারলাম না! এরকম জায়গার introduction ছোট্ট করি কিকরে!!!
এবং অবশেষে, যে দলের কথা আমি বলিনি, তারা দয়া করে আপনাদের খাদ্যের / পানীয়ের* যাবতীয় সামগ্রী সঙ্গে করে নিয়ে এসে কোনো ডাস্টবিনেই ফেলবেন। প্রকৃতির মাঝে প্লাস্টিক এর স্থাপত্য গড়ে তোলার কোনো দরকার নেই। খামোখা বামনি ফলস কে বামনি ডাস্টবিন করার কি দরকার!
*ও আপনারা এমনিই বুঝে নেবেন!!