রাঙামাটির দেশে

অনেক ‘যাবোনা’, ‘গেলে ভালো হতো’, ‘না থাক’, ‘চ, বেরিয়েই পরি’ র টানাপোড়েনের পরে অবশেষে বাইকেই শান্তিনিকেতন ট্রিপ! উদ্দেশ্য যদিও বল্লভপুর ডিয়ার পার্ক আর সোনাঝুরির হাট! মাঝখানে একবার দাঁড়িয়েছিলাম শক্তিগড় এ! মিষ্টি চাখতে। দোকানের ব্যানারে দেখলাম লেখা আছে “একমাত্র আমাদের দোকানেই গাওয়া ঘীয়ের ল্যাংচা পাওয়া যায়।” খাওয়ার পর দোকান থেকে বেরিয়ে বাকি সব দোকানেই দেখলাম, ওই একই লেখা রয়েছে!! সদ্য হওয়া গর্বচ্যূত করে আবার পাড়ি দিলাম বল্লভপুর। শেষমেষ কাউন্টার বন্ধ হওয়ার মাত্র 10 মিনিট আগে কোনোমতে পৌঁছালাম!
বল্লভপুর আমার বরাবরের প্রিয় জায়গা, কারণ এত হরিণ একসাথে আমি আর কোনো ডিয়ার পার্ক এই দেখিনি। অন্য বারের মতো এবারেও তারা দিব্যি মনের সুখে নির্ভাবনায় শেষ বেলার রোদ পোহাতে ব্যস্ত! লোক জন দের তাদের ‘থোড়াই কেয়ার!!’ বিস্তীর্ণ বিচরণক্ষেত্রে চোখ ফেরালেই দেখবেন, তারাও আপনার দিকেই তাকিয়ে!

সামান্য দূরের ওয়াচ টাওয়ার থেকেও বেশ ভালো ভিউ পাওয়া যায়! তা সে ইউক্যালিপটাস এর সবুজ পাতার ফাঁকে লালচে সূর্যের আভাই হোক কিংবা শান্ত স্নিগ্ধ জলাশয়ের ধারে ঘর ফিরতি পাখিদের বিশ্রামের গল্প!

4টেয় পার্ক বন্ধ, অগত্যা সেখান থেকেই বিদায় নিলাম। নেক্সট স্টপ সোনাঝুরির হাট। শনিবারের হাট এখন রোববারেও জমজমাট! সৌজন্যে শান্তিনিকেতন পৌষমেলা! হাটের পরিধিও বেড়েছে বেশ খানিকটা!

সোনাঝুরি সবার জন্যেই খুব প্রিয় জায়গা! একই সাথে প্রকৃতির কাছেও যাওয়া যায়, আর মানুষের কাছেও। চারিপাশে ইউক্যালিপ্টাশের ঝরে পড়া সোনালী পাতারা ছড়িয়ে, আর বিকেলের আভায় লাল মাটির এক অন্য রকম রঙ। মন টা নিজে থেকেই যেন হারিয়ে যায় কোথাও। সঙ্গে ফাউ হিসাবে বাউল গান, ছৌনাচ আর একতারার সুর। রঙ বেরঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি, জামা কাপড়, মাটির পুতুল, কাঠের খেলনা আরও কত কিছুর পসার নিয়ে গ্রামের হাট পৌঁছে গেছে অন্য মাত্রায়। এখানে চুপচাপ বসেও দিব্যি কাটিয়ে দেওয়া যায় ঘন্টার পর ঘন্টা। উঁচু উঁচু ইউক্যালিপটাস, পাখিদের ঘরে ফেরার ডাক, একতারার টুং টুং শব্দ, দূর থেকে ভেসে আসা কোনো সাঁওতালি বাঁশির সুর, মিথ্যে হিমেল হাওয়া, রাঙা সূর্যের আলতো আভা! আর কি চাই আপনার!

সন্ধ্যে নামার আগেই বেরোতে হলো বাড়ি ফেরার তাড়ায়! ফেরার পথে দেখছিলাম, যে ধান ক্ষেত গুলোর পাশ থেকে গিয়েছিলাম, তাদের ওপর তখন চাঁদের অপার মহিমা। সদ্য ধান কেটে নেওয়া ক্ষেতে ঠান্ডায় ভিড় জমিয়েছে কুয়াশারা। আর সেই আচ্ছাদনে জ্যোৎস্নার চাদর চাপিয়েছে দ্বিতীয়ার চাঁদ! ঠান্ডা উপভোগ করার এমন দৃশ্য দেখতে দেখতে হঠাৎ বাড়ি পৌঁছে গেলাম!!

Leave a comment