
পূর্বস্থলীর একটা গল্প আমাদের সবার জানা। কিন্তু এই পাখির সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় গল্প টাকে আমরা এখনো ignore করে চলেছি, হয়তো নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়ুল মারতে চলেছি। এই জায়গাটা স্থানীয়দের কাছে পিকনিক স্পট হিসাবেও বিখ্যাত। সেই খ্যাতির সীমা লোকচর্চার ফলে এখন অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে, আর পিকনিক মরশুমে লোকের সংখ্যাও এখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী।

সেদিন মাস ছয়েক পরে পূর্বাস্থলী গিয়ে আমি রীতিমতো ভাবনায় পরে গিয়েছিলাম। এটাই সেই জায়গা কিনা, তখনও পর্যন্ত বুঝতে পারিনি। পুরোপুরি দক্ষযজ্ঞ চলছে! পিকনিক পার্টির লোকজন তখন চারিদিকে রান্নাবান্নায় ব্যাস্ত। স্বভাবতই চারপাশে আবর্জনার স্তূপ, প্লাস্টিকের থালা, প্লেট, গ্লাস, ক্যারিব্যাগ এর ছয়লাপ। আমবাগানটার মালিকটার কথা শুধু ভাবছিলাম!

সামনের দিকটা তে এখন পাখি নেই বললেই চলে। কয়েকটা ডোন্ট কেয়ার পাখি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। অথচ অসময়ে গিয়েও আমরা অনেক পাখি দেখতে পেয়েছিলাম! এখন তো পাখি খুঁজে পেতে স্টেশন এর দিকে নৌকা নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এসব গল্প ছাপিয়েও যেটা ভাবনার বিষয়, সেটা হলো DJ বক্স এর দৌরাত্ম। জানিনা, পাখিদের কান সেগুলো সহ্য করতে পারবে কি না। আর কদিন পরে তাদের ইচ্ছে হবে কি না আমাদের দেখা দেওয়ার!
আমাদের মতো মানুষরাই যদি এই জায়গাগুলোর কথা সবাইকে জানাতে পারি, আমাদের মতো মানুষগুলোই যদি এই জায়গা গুলোর এমন সর্বনাশ করতে পারি, আমাদের মতো মানুষগুলোই কি এই ছোট্ট ছোট্ট প্রবলেম গুলো solve করতে পারবো না, সব কিছু শেষ হওয়ার আগে?
