দৈনন্দিন শহুরে জীবন টা কে ব্যতিরেকে মাঝে মাঝে যাওয়া যেতেই পারে একটু দূরে! শহুরে অলিগলি গুলো কে পেরিয়ে একটু দূরে গেলেই পাওয়া যায় শান্ত সবুজ আর খোলা আকাশের হাতছানি। তাই প্রায় সপ্তাহেই উদ্দেশ্যহীন ভাবে বেরিয়ে পড়ি এদিক ওদিক। রাস্তা যেভাবে গেছে, সেভাবেই।

তারই মধ্যে একদিন গিয়েছিলাম তারকেশ্বর এর দিকে। না, ঠিক পুজোর উদ্দেশ্যে যাইনি, গেছিলাম শুধুমাত্র হাওয়া বদল করতেই।
রবিবারের সকালে মেঘলা আকাশ সঙ্গে করে সকাল সাড়ে 6টায় বাইকে বেরোলাম হাওড়া থেকে। জি টি রোড ধরে বৈদ্যবাটি পর্যন্ত যাওয়ার পর বাঁদিকের রাস্তা যেটা সোজা আরামবাগ এর উদ্দেশ্যে চলে গেছে, তাতেই এগিয়ে চললাম। আর সেই রাস্তায় ওঠার পরেই বুঝতে পারলাম শহুরে ইট পাথরের পিছনেই এখনো খুঁজে পাওয়া যায় খাঁটি সবুজের স্পর্শ! মেঘলা আকাশ থাকায় সূর্যদেব তখনো নিদ্রায়, আর ঠান্ডা একটা হাওয়ার অনাবিল স্রোতে বেশ আনন্দেই কাটালাম সকাল টা।
ফেরার সময় হঠাৎই বৃষ্টি নামায় মাঝরাস্তাতেই একটা কুঁড়ে ঘরের ছায়ায় দাঁড়িয়ে পড়তে হলো। তাতে যদিও আখেরে লাভই হলো! ঝিমঝিমে বৃষ্টি টিনের চালে মিঠে তালে বাজিয়ে চলেছে তার সুর, আর দুপাশে ঘন সবুজ খেত নিয়ে ধূসর রাস্তা তার সারা শরীর ভিজিয়ে আরো,আরো কালো হয়ে উঠে তারই অপরূপ সৌন্দর্য বিকশিত করছে। সেখানে নেই কোনো ট্রাফিক এর হর্ন, নেই কোনো লাল হলুদ সবুজের নিয়ম, আকাশ সেখানে শুধুই অন্তহীন, সেখানে তার কোনো উঁচু নিচু বিভেদ নেই, নেই কোনো মোড়।
বেশ কিছুক্ষণ পর মৃদু বৃষ্টিতেই বেরিয়ে পড়লাম ফেরার পথে। অদ্ভুত এক মুগ্ধতা ছেয়ে ছিল চারপাশে। পথের ধারের খেত গুলোয় তখন পাখিদের আনাগোনা আর বৃস্টির ঝাপসার আলো আধারীর খেলা গায়ে মাখতে মাখতে ফিরে এলাম বাড়ি! ফিরে এলাম আবার সেই দৈনন্দিন একঘেয়ে শহরে।

হয়তো আমাদের সবটুকুই দরকার। এই শহুরে একঘেয়েমি না থাকলে বুঝতেই পারতাম না, সবুজের আনন্দ কতটুকু, আর এই শহরে না ফিরলে তো আর ভাবতাম ই না , আরো একটা দিন এমনি করেই অন্য একটা কোথাও অন্য কোনো ভাবে! অজানার উদ্দেশ্যে নিজেরই আসে পাশে!