রোজ সকালে মর্নিং ওয়াক যদি বিরক্তিকর হয়ে গিয়ে থাকে, তবে সকাল সকাল বাইকটা নিয়ে একটু বেরিয়ে পড়তে পারেন! ব্যান্ডেল পেরোলেই পরিচ্ছন্ন Delhi Road, আর দুপাশে ঘন সবুজের ছায়া। বিস্তীর্ণ চাষের খেত, আর বাইকে মনোরম লং ড্রাইভ!! (অবশ্যই গরমকাল টা এড়িয়ে!!)। গন্তব্য অম্বিকা কালনা! জেলা বর্ধমান হলেও হুগলী পেরোলে প্রায় সীমান্তেই রয়েছে কালনা। তাই খুব বেশি জার্নি করতে হবে না!!

কালনা শহরখানা বেশ! আধুনিকতার ছোঁয়া পড়েছে, কিন্তু দূষণ নামমাত্রই। তাই এপাশে ওপাশে আনাচে কানাচে এখনও সবুজই দেখতে পাবেন! ঐতিহাসিক দিক থেকেও এই শহরের গুরুত্ব অনেকখানি। দেবী অম্বিকা সিদ্ধেশ্বরীর নামে এখানকার নাম হয় অম্বিকা কালনা। ১৬৮৮ সালে তৈরি হওয়া সিদ্ধেশ্বরীর মন্দিরে একসময় নরবলিরও প্রথা ছিল।
কালনার অন্যতম দুটি ঐতিহাসিক আকর্ষণ হলো রাজবাড়ী মন্দির চত্বর এবং ১০৮ শিব মন্দির। দুটির দরজা প্রায় মুখোমুখি। রাজবাড়ী চত্বরে প্রথমেই বাঁ হাতে পড়বে প্রতাপেশ্বর মন্দির। টেরাকোটার কাজ লক্ষণীয়। সামান্য এগিয়ে গেলে বাঁ হাতেই রাসমঞ্চ। দুই বৃত্ত বিশিষ্ট। আর খানিকটা এগিয়ে গেলেই একটি তোরণের মধ্য দিয়ে লালজি মন্দির।

১৭৩৯ সালে ব্রজ কিশোরী দেবী এই লালজি মন্দির তৈরি করান। এরই মুখোমুখি রয়েছে গিরি গোবর্ধন মন্দির। লালজি মন্দিরের গায়ে টেরাকোটার কাজ এখনো খুব স্পষ্ট এবং অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। রাধা কৃষ্ণের অসাধারণ বিগ্রহ রয়েছে এই মন্দিরে।
এই গরমেও মন্দিরের দালান খুব শীতল আর আরামদায়ক (তখনকার স্থাপত্য বলেই বোধহয়!)। আমরা সেখানেই জিরিয়ে নিয়েছিলাম। বেশ পরিপাটি করে রাধা কৃষ্ণকে সাজানো রয়েছে।
মন্দির থেকে বেরিয়ে বাঁ হাতে অন্যান্য মন্দির এর সাথে অনেক গুলি ছোট ছোট মন্দির রয়েছে। যাদের মধ্যে একটিকে দেখলে আপাতদৃষ্টিতে হেলান মন্দির বলেই মনে হয়!!
একটু এগিয়ে গেলে আবার একটি তোরণের মধ্যে দিয়ে ঢুকে, পড়বে কৃষ্ণচন্দ্রের মন্দির। বেশ শান্ত নিরিবিলি মন্দির! কাঁঠাল গাছের ছায়ায় এই জায়গাটিও বেশ ঠান্ডা! লং ড্রাইভের গ্লানি দূর করার মতো উপযুক্ত জায়গা!

এই মন্দির চত্বর থেকে বেরিয়ে ঠিক উল্টো দিকেই ১০৮ শিব মন্দির। দুটি বৃত্তের বড়ো বৃত্তে ৭৪টি এবং ভিতরে ছোট বৃত্তে ৩৪ মন্দির নিয়ে মোট ১০৮ শিব মন্দির। ১৭৫৫ (মতান্তরে ১৮০৯) খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরটি তৈরি করা হয়। বিগ্রহগুলির বিশেষত্ব হলো সাদা কালো রঙে বিন্যস্ত, এবং প্রতিটি বিগ্রহই একটি বিশেষ কোণে ঘোরানো রয়েছে।
হাওড়া থেকে কালনা প্রায় ঘন্টা দুয়েকের পথ। আপনি ট্রেনেও যেতে পারেন! কাটোয়া লোকাল এ। স্টেশন থেকে 10-15 মিনিটের হাঁটা পথ। খাবার দাবার যা কিছু স্টেশনের বাইরেই পেয়ে যাবেন। ওই দিনই বিকেলের ট্রেন এ ফিরতে পারেন, কিংবা অন্য কোনো গন্তব্য।

বাইকে এই কারণেই যেতে বলি, যাতে নিজের মতো করে সময় ঠিক করতে পারেন, কখন বেরোবেন, কতক্ষন থাকবেন, আর কখন ফিরবেন! উপরি পাওয়া হিসাবে, লং ড্রাইভের জন্য আদর্শ destination! আদর্শ Route!!

আর যারা হাইওয়ে কে বিপজ্জনক মনে করেন, তাদের জন্য… হাইওয়েতে যারা গাড়ি চালান তারা অনেক বেশি শিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ, হাইওয়ে ট্রাফিক আইনের ক্ষেত্রে। তাই হাইওয়ে পাড়ার গলির থেকেও অনেক বেশি নিরাপদ!! শুধু নিজে সাবধানে থাকলেই চলবে!!
