কখনও কখনও চেনা জায়গাগুলোও Offbeat হয়ে যেতে পারে একটু খুঁজলেই!! যারা মন্দারমনিতে যান, তাদের খুব কম লোকের কাছেই হদিশ রয়েছে, যে মোহনার কাছে ফাঁকা নিরিবিলি একখানা বিচ রয়েছে, যা দাদনপত্রবার এলাকার থেকে অনেক বেশি মনোরম!! (অনেকে তো এটাও জানেন না যে মোহনাও রয়েছে!!) বীচ থেকে পশ্চিমে দীঘার দিকে বেশ খানিকটা হেটে গেলে Marino Beach Resort টা ছাড়িয়ে গেলেই দেখবেন, একটা অন্যরকম পরিবেশ!! এখানে বালির রং ফ্যাকাশে হলুদ, আর অনেক বেশী উজ্জ্বল, ভাঙা গাছের গুড়ি এদিক ওদিক ইতস্তত ছড়ানো, বালির পাড়ে কাঁটা গাছের বড়ো বড়ো ঝোপ, এতটাই বড়ো, যে আপনি তাদের ছায়ায় রেস্ট ও নিতে পারেন!! কিছুটা এগোলে কয়েকটা বালির টিলা, তার ওপারে গ্রাম। ঝাউবন এর মাঝখানে টিলার ওপর বসলে সামনে সমুদ্র, আকাশ বালি, মিলেমিশে একাকার! (দুঃখ একটাই, শুষ্ক বালি গায়ে এসে বসে!!)।
জায়গাখানা প্রতিবছর গেলে আপনি আলাদাই দেখতে পাবেন! সমুদ্রের জোয়ার ভাটায় appearance প্রায় প্রতি ঋতুতেই বদলাতে থাকে।আর সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ টা হলো লাল কাঁকড়া! বীচ এর সবচেয়ে বেশি কাঁকড়া দেখতে পাওয়া যায় এইখানেই। ভাঁটার সময় কিংবা ভোরবেলায় এখানে এলেই দেখতে পাবেন লক্ষ্য লক্ষ্য কাঁকড়া এ গর্ত থেকে ও গর্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে!! তাদের কাছে যদিও বিপদ একটাই!! আপনি নিজে! সদা সর্বদা চোখ দুখানা এন্টেনার মতো করে আপনার ওপর নজর রেখে চলেছে! (দয়া করে তাদের বিব্রত করবেন না।)বর্তমানে সৈকতের ভাঙ্গন রোধে ছোট ছোট পাথরের বাঁধ বানানো হয়েছে সেখানে। জোয়ার না এলে সেগুলো আর তার চারপাশের Atmosphere বেশ উপভোগ্য!!হয়তো আপনাদের সবার কাছেও এমন অনেক হদিশ রয়েছে, যেখানে main spot এ ভিড় হলেও ওই spot এ বেশ আলাদা ভিউ!! Offbeat জায়গাগুলো এভাবেই তৈরি হয়। স্বাভাবিক একটা ভিড় থেকে বেরিয়ে একটু আসে পাশে গিয়ে, বা রাস্তা থেকে যেতে যেতে আচমকাই অন্য রাস্তায় গিয়ে, আবার ড্রাইভার কে বলে তাদের নিজস্ব জ্ঞাতব্য জায়গাগুলোয় গিয়েই নতুন নতুন ডেস্টিনেশন তৈরি হয়ে যায়!!আশা করবো, Offbeat জায়গা গুলোর ঠিক ততটাই খেয়াল রাখবেন, যতটা আনন্দ আপনি তাদের প্রথম দেখায় পেয়েছিলেন!! নাহলে এই ভ্রমণের আধুনিকীকরণের চাপে পড়ে সমুদ্রের স্বাদটা দীঘার বীচে সিমেন্টের পাড়ে বসেই মেটাতে হবে!!😢😢